নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস নিয়ে নিয়ে আজকের আটিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা করব। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার সফলভাবে গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করতে হবে। সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই না করলে সফল হওয়া সম্ভব হয় না।
শুধু সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করলে হবে না। ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য আরো যে সকল নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়মগুলো সঠিকভাবে মানতে হবে। কিন্তু সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার সফল হওয়ার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
পেজ সূচিপত্রঃ নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস
- নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস
- কোন ধরনের কাজ কোন মার্কেটপ্লেসে বেশি পাওয়া যায়
- নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ পাওয়ার সহজ উপায় এবং টিপস
- ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার জন্য যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে
- নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে সহজ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস
- দীর্ঘসময় কাজ করার জন্য সবথেকে ভালো মার্কেটপ্লেস
- নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করার টিপস
- নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কোন স্কিল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা ভালো
- মার্কেটপ্লেসে পেমেন্ট তোলার সহজ উপায় সম্পর্কে জানুন
- উপসংহার (নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস)
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করতে হবে। সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করা নতুনদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। অনেকে ভুল মার্কেটপ্লেস বাছাই করে একাউন্ট খুলে। কিন্তু কোন কাজ পাই না। এর ফলে নতুন ফ্রিল্যান্সাররা হতাশ হয়ে পড়ে। অনেকে কাজ ছেড়ে দেয় । এই জন্য নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ শুরু করার আগে সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেন নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কাজ শুরু করার আগে সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করতে পারে। এইজন্য নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সেরা ছয়টি মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আরো পড়ুনঃ ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার নতুন উপায় ২০২৫
- Upwork: এই মার্কেটপ্লেসটি প্রফেশনাল মার্কেটপ্লেস হিসেবে পরিচিত। এই মার্কেটপ্লেসটিতে কাজ পাওয়া প্রথমে খুবই কঠিন হতে পারে। কারণ এই মার্কেটপ্লেসে গ্রাহককে কাজের জন্য প্রস্তাব পাঠাতে হয়। কাজ পাওয়ার জন্য খুবই আকর্ষণীয় ও সুন্দরভাবে প্রোফাইল সাজাতে হয়। এছাড়াও কভার লেটার খুবই মনোরম ও সুন্দর করে লিখতে হয়। এই মার্কেটপ্লেসটিতে কাজ করার জন্য প্রথমে খুবই ধৈর্য সহকারে ধারণ করতে হয়। প্রথমে ধৈর্যধারণ করলে পরে নিয়মিত গ্রাহক পাওয়া যায়।
- Fiverr: এই মার্কেটপ্লেসটিতে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য খুবই ভালো একটি মার্কেটপ্লেস। কেননা এই মার্কেটপ্লেসটিতে গ্রাহকের কাছে কাজের প্রস্তাব পাঠাতে হয় না। বরং এই মার্কেটপ্লেসটিতে কাজ পাওয়ার জন্য প্রথমে গিগ তৈরি করতে হয়। গিগ তৈরি করার পাবলিশ করতে হয়। গ্রাহকের কাছে আপনার গিগ পছন্দ হলে গ্রাহকেরা নিজেই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।
- Freelancer.com: এই মার্কেটপ্লেসটি নতুনদের জন্য খুবই ভালো একটি মার্কেটপ্লেস। এই মার্কেটপ্লেসটিতে নতুনরা ছোট ছোট কাজের প্রপোজালের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে পারে। এই মার্কেটপ্লেসটিতে ভালো কাজ পেতে হলে প্রতিটি প্রজেক্ট এর জন্য বিড তৈরি করতে হয়। সঠিকভাবে প্রোফাইল সাজাতে হয়। প্রোফাইল যেন সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সুন্দর আকর্ষণীয় ও দক্ষতার সাথে বিড তৈরি করলে খুব সহজেই সফলতা পাওয়া যায়।
- Kework: এই মার্কেটপ্লেসটিতে কাজের জন্য গ্রাহকের কাছে আলাদাভাবে কাজের প্রস্তাব পাঠাতে হয় না। এই মার্কেটপ্লেসটিতে প্রথমে গিগ তৈরি করতে হয়। গিগ তৈরি করার পাবলিশ করতে হয়। গ্রাহকের কাছে আপনার গিগ পছন্দ হলে গ্রাহকেরা নিজেই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। এই মার্কেটপ্লেসটিতে প্রতিযোগিতা অনেক কম রয়েছে। তাই এই মার্কেটপ্লেসটি নতুনদের জন্য খুবই উত্তম।
- PeoplePerHour: এই মার্কেটপ্লেসটি ইউরোপ গ্রাহকদের কাছে খুবই প্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস। এই মার্কেটপ্লেসে দুই ভাবেই কাজ পাওয়া যায়। বিড তৈরি করেও এই মার্কেটপ্লেস এই কাজ পাওয়া যায়। আবার গিগ পাবলিশ করেও নিজের সার্ভিস বিক্রি করার মাধ্যমেও কাজ করা যায়। এই মার্কেটপ্লেসটিতে প্রতিযোগিতা অনেক কম রয়েছে। তাই আপনি যদি ভালো দক্ষতা নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং সঠিক সময়ে আপনার নির্দিষ্ট কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারেন। তাহলে এই মার্কেটপ্লেসটি আপনার জন্য খুবই ভালো হবে।
- Guru: ১৯৯৮ সালে গুরু মার্কেটপ্লেসটি তাদের কাজ শুরু করার মাধ্যমে তাদের প্রতিষ্ঠানটি চালু করে। এই মার্কেটপ্লেসটিতে গ্রাহকেরা তাদের কাজ সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে জব পোস্ট করে থাকে। এই জব পোস্ট দেখে ফ্রিল্যান্সাররা কাজের প্রপোজাল দিয়ে থাকে। গ্রাহক য়াদের পছন্দ অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সার বাছাই করে কাজ দিয়ে থাকে। এই মার্কেটপ্লেসটিতে ঘন্টার উপর নির্ভর করে এবং ফিক্সড দুই ভাবেই কাজ করা যায়। এই মার্কেটপ্লেসটি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য খুবই কড়াভাবে নিয়ম নীতি নির্ধারণ করে রেখেছে।
কোন ধরনের কাজ কোন মার্কেটপ্লেসে বেশি পাওয়া যায়
ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে কাজ করা মানষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। ফ্রিল্যান্সারদের কাজ করার জন্য বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস রয়েছে। এই মার্কেটপ্লেসগুলোতে বিভিন্ন ধরনের কাজ পাওয়া যায়। একেক মার্কেটপ্লেসে একেক রকম কাজের চাহিদা বেশি রয়েছে। আজকে আমরা কোন ধরনের কাজ কোন মার্কেটপ্লেসে বেশি পাওয়া যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করব।
- Upwork: Upwork মার্কেটপ্লেসটিতে ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, কন্টেন্ট রাইটিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন এই কাজগুলো বেশি পাওয়া যায়।
- Fiverr: Fiverr মার্কেটপ্লেসটিতে ওয়েবসাইট ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এই কাজগুলো বেশি পাওয়া যায়।
- Freelancer.com: Freelancer.com মার্কেটপ্লেসটিতে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ওয়েবসাইট ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি এইসব কাজগুলো বেশি পাওয়া যায়।
- Kework: Kework মার্কেটপ্লেসটিতে ওয়েবসাইট ফিক্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও সার্ভিস, কনটেন্ট রাইটিং এইসব কাজগুলো বেশি পাওয়া যায়।
- PeoplePerHour: PeoplePerHou মার্কেটপ্লেসটিতে ভিডিও প্রোডাকশন, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, কপিরাইটিং, ওয়েব ডিজাইন এইসব কাজগুলো বেশি পাওয়া যায়।
- Guru:Guru মার্কেটপ্লেসটিতে প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, কনটেন্ট রাইটিং এইসব কাজগুলো বেশি পাওয়া যায়।
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ পাওয়ার সহজ উপায় এবং টিপস
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শিখে কাজ পাওয়া অনেক কঠিন একটা বিষয়। কেননা আগে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ এর চাহিদা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা অনেক কম ছিল। তাই যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং শিখে কাজ করতো তারা খুব সহজেই কাজ পেয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই গ্রাহকেরা দক্ষ ও অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের কাজের রিভিউ এবং সঠিকভাবে সঠিক সময়ে যারা কাজ সম্পন্ন করছে তাদের কাজ সাহায্যে করিয়ে থাকে। তাই যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখে কাজ পাচ্ছে না। তারা খুব সহজেই হতাশ হয়ে পড়ছে।নতুন ফ্রিল্যান্সাররা যেন খুব সহজেই কাজ পায় সেই উপায় ওর টিপস গুলো জানা জরুরী। তাই আজকে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ পাওয়ার সহজ উপায় ও টিপস নিয়ে আলোচনা করব।
প্রথমে আমাদের সঠিক কাজ বাছাই করতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যতে যে কাজের চাহিদা প্রচুর থাকবে বলে আপনার মনে হয় সেই কাজে আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যেমনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা প্রচুর। আশা করা যাচ্ছে ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা আরো বাড়বে। কারণ বর্তমান পৃথিবীর মানুষ অনলাইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এখন প্রায় সকল রকমের ব্যবসা ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবসার প্রচার করা আরো বাড়বে। আরো অনেক অনলাইন প্লাটফর্মে কাজ রয়েছে। যেগুলোর চাহিদা বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বাড়বে। সেই রকম চাহিদা সম্পন্ন কাজ আপনাকে বেছে নিতে হবে। এরপর আপনার নিজস্ব একটি প্রচুর শক্তিশালী এবং মজবুত পোর্টফোলিও বানাতে হবে। আপনাকে মার্কেটপ্লেসগুলোতে নিয়মিত কাজে যুক্ত বা সক্রিয় থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় উপায় ও টিপস হল ধৈর্য সহকারে কাজ করে যেতে হবে। কাজ না পেলে হতাশ হয়ে ভেঙে পড়া যাবেনা। ধৈর্য সহকারে কাজে লেগে থাকতে হবে। তাহলে আপনি একসময় অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার জন্য যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে
ফ্রিল্যান্সিং এ সফল হওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে কিছু বিষয় রয়েছে। যেগুলো ভালোভাবে মাথায় রাখতে হবে। আপনাকে নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। যে আপনি পারবেন, আপনাকে পারতেই হবে এই কথাটি সব সময় মাথায় রাখতে হবে। আপনার নিজের জন্য সঠিক কাজ বাছাই করে সেই কাজে ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করুন। আপনাকে খুবই সুন্দর এবং আকর্ষণীয় একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। এছাড়াও আপনাকে প্রচুর শক্তিশালী এবং মজবুত একটি পোর্টফোলিও বানাতে হবে। প্রোফাইল ও পোর্টফোলিও অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে গ্রাহকের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। আপনার কথা বলার ধরন এবং আপনার কাজের ধরন খুবই আকর্ষণীয় ও মনোরম হতে হবে।
আরো পড়ুনঃ ইউরোপের ২৬ টি দেশের নাম, ইউরোপের দেশগুলোর নাম ও রাজধানী
তাহলে খুব সহজেই গ্রাহকেরা আপনার কাজ পছন্দ করবে এবং আপনাকে কাজ দিবে। এছাড়াও আপনাকে ইংরেজিতে খুবই পারদর্শী হতে হবে। এছাড়াও গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট কাজটি আপনাকে করে দিতে হবে। তাহলে গ্রাহকেরা খুশি হয়ে আপনার কাজের ভালো রিভিউ দিবে। এই রিভিউ আপনাকে পরে আরো অনেক কাজ পেতে সাহায্য করবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার জন্য এই বিষয়গুলো অবশ্যই আপনাকে ভালোভাবে মাথায় রাখতে হবে। তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে ভালো মানের আয় করাতে পারবেন। নিজের সফল এবং উন্নত ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন।
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে সহজ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস
বর্তমানে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শিখে কাজ করতে চাচ্ছেন। ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য অনেকগুলো মার্কেটপ্লেস রয়েছে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে আমরা আলোচনা করেছি। তবে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে সহজ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হলো কেওয়ার্ক। কেননা আপনি যদি upwork মারকেটপ্লেস এ কাজ করতে চান। তাহলে আপনাকে বিড করার জন্য অবশ্যই টাকা দিয়ে সেগুলো কিনতে হবে। আপনাকে প্রত্যেক মাসে কয়েকটি বিড আপনাকে ফ্রি দেওয়া হবে। যেই বিডগুলো দিয়ে আপনি এক থেকে দুইটি কাজের জন্য বিড করতে পারবেন। এই এক থেকে দুইটি বিডের মধ্যে আপনি কাজ না পেতেও পারেন। তাই আপনি এই মার্কেটপ্লেসে যদি কাজ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কাজ পাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে বিড কিনতে হবে।
কিন্তু আপনি যদি কেওয়ার্ক-এ কাজ করেন তাহলে আপনাকে বিড করার বা কেনার দরকার পড়বে না। বরং আপনি যেই কাজে দক্ষতা অর্জন করেছেন সেই কাজের সম্পর্কে ভালোভাবে বর্ণনা দিয়ে একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় গিগ পাবলিশ করতে পারবেন। এই গিগ যদি কোন গ্রাহকের পছন্দ বা প্রয়োজন হয় তাহলে সেই গ্রাহক আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। এই মার্কেটপ্লেসটি নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। এছাড়াও এই মার্কেটপ্লেসটিতে কাজের ধরন ও নিয়ম নীতি নতুনদের জন্য বোঝা অনেক সহজ। এই মার্কেটপ্লেসটিতে ছোট ছোট অনেক কাজের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যার ফলে নতুন ফ্রিল্যান্সাররা খুব সহজে কাজ পেয়ে থাকে।
দীর্ঘসময় কাজ করার জন্য সবথেকে ভালো মার্কেটপ্লেস
এখন বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজের অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তবে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে সহজ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হচ্ছে upwork। কেননা এই মার্কেটপ্লেসটি প্রচুর বড় বড় কোম্পানি বা গ্রাহক নিয়মিত গুরুত্বের সাথে কাজ দিয়ে থাকেন। এই মার্কেটপ্লেসটিতে ঘন্টাভিত্তিক, সাপ্তাহিক, মাসিক চুক্তিবদ্ধভাবে কাজের পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে। এই মার্কেট প্লেসটিতে গ্রাহকের কোনো ফ্রিল্যান্সারের কাজ পছন্দ হয়ে থাকলে। দীর্ঘসময় এক ফ্রিল্যান্সারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হন।
এর ফলে গ্রাহক ও ফ্রিল্যান্সারের মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয় এবং নিয়মিত আয় করা যায়। আমি মনে করি যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং কাজ শিখছে তারা যদি ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তাহলে তাদের জন্য আপওয়ার্ক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সবচেয়ে ভালো হবে। তাছাড়াও কন্ট্রাক্ট বেইজড সিস্টেম, টাইম ট্র্যাকার মাইলস্টোন, পেমেন্ট সিস্টেম এর দীর্ঘসময় কাজ করার জন্য অনেক ভালো। ফ্রিল্যান্সার এবং গ্রাহকের জন্য এই মার্কেটপ্লেসটি একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
অন্যান্য ছোট এবং এককালীন কাজের চেয়ে এই মার্কেটপ্লেসটিতে দীর্ঘসময় ধরে টাকা উপার্জন করা সম্ভব হয়ে থাকে। আপনার কাজের ধরন এবং আপনার প্রোফাইল ও পোর্টফলিও যদি শক্তিশালী ও মজবুত হয়। আপনি যদি নির্দিষ্ট টাইমে নির্দিষ্ট কাজটি গ্রাহককে ডেলিভারি দিতে পারেন। তাহলে আপনি কাজের জন্য অনেক দীর্ঘসময় কাজ করার জন্য অনেক গ্রাহক পেয়ে যাবেন। আপনার যদি আপওয়ার্ক-এ একটি শক্তিশালী ও মজবুত প্রোফাইল থাকে। তাহলে আপনি দীর্ঘসময় ধরে কাজ পাবেন। তাই যারা ফ্রিল্যান্সিং করে নিজেকে সফল ব্যক্তিতে এবং নিজের সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চাচ্ছেন। তাদের জন্য upwork সবচেয়ে ভালো মার্কেটপ্লেস।
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করার টিপস
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা একেক মার্কেটপ্লেসের কাজের ধরন একেক রকম। প্রতিযোগিতাও ভিন্নরকম এবং গ্রাহকের ব্যবহার আলাদা হয়ে থাকে। আপনি যেই কাজে দক্ষতা অর্জন করেছেন। সেই কাজটি যেই মার্কেটপ্লেসে চাহিদা বেশি রয়েছে আপনাকে কাজের জন্য সেই মার্কেটপ্লেসটি বাছাই করতে হবে। ধরুন আপনি যদি কনটেন্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং বা গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ ভালো দক্ষতা অর্জন করে থাকেন। তাহলে আপনার জন্য কেওয়ার্ক অথবা ফাইভার ভালো হবে। তাছাড়া আপনার যদি সফটওয়্যার সম্পর্কিত বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কিত কাজে ভালো দক্ষতা থাকে।
তাহলে আপনি কাজ করার জন্য upwork মারকেটপ্লেস বাছাই করতে পারেন। এছাড়াও মার্কেটপ্লেস বাছাই করার আগে অবশ্যই কিছু বিষয়ে ভালোভাবে জানতে হবে। যেমনঃ মার্কেটপ্লেসটির পেমেন্ট সিস্টেম, নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজের সুযোগ সুবিধা কেমন দেওয়া হয়, কম্পিটিশন সম্পর্কে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কেওয়ার্ক বা ফাইভার মার্কেটপ্লেসটি অনেক ভালো হবে। কারণ এই মার্কেটপ্লেসগুলোতে বিড তৈরি করতে হয় না। বরং আপনি নিজের কাজের গিগ পাবলিশ করতে হয়। আপনার সার্ভিস বা গিগ কোন গ্রাহকের পছন্দ হলে আপনার সাথে সেই গ্রাহক নিজে থেকেই যোগাযোগ করবে।
আপনি যদি সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করে ধৈর্য সহকারে কাজ শুরু করেন। তাহলে আশা করা যায় আপনাকে হতাশ হতে হবে না। তাই আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনাকে মার্কেটপ্লেস বাছাই করার আগে ভালোভাবে মার্কেটপ্লেস গুলো সম্পর্কে জানতে হবে। নিজের কাজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে মার্কেটপ্লেস বাছাই করতে হবে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করার টিপস গুলো মাথায় রেখে মার্কেটপ্লেস বাছাই করে কাজ শুরু করুন। আশা করা যায় তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করে নতুনরা খুব সহজেই সফল হতে পারবে।
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কোন স্কিল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা ভালো
যারা নতুনভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখতে চান তারা বুঝতে পারে না কোন স্কিল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কোন স্কেল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা ভালো এই সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে অবশ্যই যেই স্কিলটি বর্তমান ও ভবিষ্যতে ও চাহিদা থাকবে। সেই স্কিলে দক্ষতা অর্জন করে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা ভালো।
আরো পড়ুনঃ দুবাই থেকে ইতালি যেতে কত টাকা লাগে
বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ভিডিও এডিটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ইমেল মার্কেটিং, এসইও এই কাজগুলোর চাহিদা বর্তমানে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসগুলোতে প্রচুর রয়েছে। আশা করা যায় ভবিষ্যতেও এই কাজগুলোর চাহিদা থাকবে। আপনি এই কাজগুলোর মধ্যে আপনার পছন্দ অনুযায়ী একটি কাজের উপর ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করুন। এরপর সেই কাজের সকল নিয়ম নীতি মেনে কাজ শুরু করুন। হতাশ না হয়ে ধৈর্য সহকারে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু করুন। তাহলে অবশ্যই আপনি সফল হতে পারবেন।
মার্কেটপ্লেসে পেমেন্ট তোলার সহজ উপায় সম্পর্কে জানুন
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে কিছু নির্দিষ্ট পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা তুলতে হয়। বর্তমানে Fiveer, Freelancer.com, Kwork, Upwork, PeoplePerHour এই মার্কেটপ্লেসগুলোতে টাকা তোলার জন্য ব্যাংক ট্রান্সফার, Payoneer, Paypal সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমাদের বাংলাদেশ সহজ ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে Payoneer সবচেয়ে বেশি পরিচিত। আপনি যেই মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন সেই মার্কেটপ্লেসের পেমেন্ট অপশনে যেয়ে আপনি Payoneer অ্যাকাউন্ট লিংক করবেন। তাহলে আপনি গ্রাহকের কাজ সম্পন্ন করার পরে যেই পেমেন্ট পাবেন তা যান্ত্রিকভাবে আপনার একাউন্টে পৌঁছে যাবে।
এরপর আপনি আপনার স্থানীয় বা আশেপাশের ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে পারবেন। এছাড়া অনেক মার্কেটপ্লেসে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমেও পেমেন্ট দিয়ে থাকে। আপনি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমেও টাকা তুলতে পারবেন। তবে ব্যাংক ট্রান্সফারের প্রসেসিং একটু কঠিন হয়ে থাকে। মার্কেটপ্লেসের অফিসিয়াল পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য টাকা তোলা সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ। এর ফলে আপনি প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে পারবেন। পেমেন্ট তোলার সময় অবশ্যই অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
উপসংহার (নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস)
আজকের এই আর্টিকেলটিতে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৬ টি সেরা মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে যারা নতুন ফ্রিল্যান্সার তারা সঠিক মার্কেটপ্লেস বাছাই করে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু করবে। এর ফলে তারা সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে। তাই আজকে আমরা নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভালো মানের মার্কেটপ্লেসগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
আপনি যেই কাজের দক্ষতা অর্জন করেছেন। সেই কাজের চাহিদা যেই মার্কেটপ্লেসে বেশি এবং নতুনদের জন্য যে মার্কেটপ্লেসে কাজের সুযোগ-সুবিধা বেশি রয়েছে ও সহজে কাজ পাওয়া যায় সেই মার্কেটপ্লেসটি বাছাই করুন। ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার সকল নিয়ম-নীতি সঠিকভাবে মেনে কাজ শুরু করুন। সহজে কাজের হাল ছেড়ে না দিয়ে ধৈর্য সহকারে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করুন। তাহলে একসময় না একসময় আপনার হাতের মুঠোয় সফলতা অবশ্যই ধরা দিবে।



আরাম্ভ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url