কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

আপনি কি, কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। কিসমিস আমাদের সকলের অতি পরিচিত একটি ড্রাই ফ্রুট বা শুকনো ফল। প্রচুর পুষ্টিগণ সমৃদ্ধ এই খাদ্য উপাদানটি আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। 

কিসমিস-ভিজিয়ে-খাওয়ার-উপকারিতা-সম্পর্কে-জেনে-নিন

আঙ্গুর কে ভালোভাবে শুকিয়ে কিসমিস তৈরি করা হয়। কিসমিস পোলাও, পায়েস, বিভিন্ন ডেজার্ট এবং বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাদ্যে ব্যবহার করা হয়। তবে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রচুর। কিসমিস আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

পেজ সূচিপত্রঃ কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা জানুন 

কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

আজকে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব। আমাদের অতি পরিচিত একটি খাদ্য উপাদান হলো কিসমিস। কিসমিস বিভিন্ন পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ একটি খাবার। এই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন কিসমিস ভিজিয়ে খেলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন রকমের উপকারে আসে। ফলে আমাদের শরীর বিভিন্ন রকমের রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকে। নিচে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা গুলো দেওয়া হলোঃ 

  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকেঃ কিসমিসে পটাশিয়াম রয়েছে। কিসমিস পানিতে ভেজানোর ফলে পটাশিয়াম পানিতে ভালোভাবে মিশে যায়। তাই কিসমিস ভেজানো পানি খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • রক্তশূন্যতা কমাতে সাহায্য করেঃ কিসমিসে আয়রন রয়েছে। আয়রন আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। কিসমিস পানিতে ভেজানোর ফলে আয়রন পানিতে ভালোভাবে মিশে যায়। তাই যাদের রক্তশূন্যতা সমস্যা রয়েছে। তারা যদি কিসমিস ভেজানো পানি খায়। তাহলে তাদের রক্তশূন্যতার সমস্যা দূর হয়। 
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ কিসমিসের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আমরা জানি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম। তারা যদি নিয়মিত কিসমিস ভিজিয়ে খায়। তাহলে তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বাড়বে।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করেঃ অনেকেরই হজমের সমস্যা রয়েছে। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে। তারা নিয়মিত কিসমিস ভিজিয়ে খায়‌। তাহলে তাদের হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। কারণ কিসমিস হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  • ক্ষতিকর পদার্থ দূর করেঃ কিসমিস হলো প্রাকৃতিক ডিটক্স। তাই আপনি যদি কিসমিস ভিজিয়ে পানি খেতে পারেন। তাহলে শরীরে থেকে বিভিন্ন টক্সিন বা ক্ষতিকার পদার্থ দূর হবে। ফলে আপনার শরীর বিষমুক্ত থাকবে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন। তারা নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খেতে পারেন। তাহলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা ইনশাআল্লাহ দূর হবে। আপনি যদি নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খান। তাহলে খুব দ্রুতই ভালো ফলাফল পাবেন।
  • চুল ভালো রাখেঃ যারা চুলের সমস্যায় ভুগছেন, চুল পড়ে যাচ্ছে, নতুন চুল গজাচ্ছে না। তারা নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খেতে পারেন। কারণ আপনি যদি নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খান। তাহলে আপনার চুল পড়া কমবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।
  • ত্বক ভালো রাখেঃ যারা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খেতে পারেন। নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার ফলে আপনার ত্বকের বয়স্কের ছাপ কমবে।  এছাড়া ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হবে।
  • হাড় ভালো রাখেঃ কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। তাই আপনি যদি নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খেতে পারেন। তাহলে আপনি হাড়ের দুর্বলতার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। আপনার হাড়কে শক্ত ও মজবুত করে হাড়কে সুস্থ ও ভালো রাখবে। 
  • ব্রেন বৃদ্ধি করেঃ যাদের ব্রেন দুর্বল পড়া মনে রাখতে পারে না। তারা যদি নিয়মিত সকালে খালি পেটে কিসমিস ভেজানো পানি খায়। তাহলে তাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে তাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং পড়া লেখা সবকিছুই ভালোভাবে মনে রাখতে পারবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকেঃ কিসমিসে থাকা ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই ক্ষুধা কম অনুভব হয়। বারবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করেঃ কিসমিস ভেজানো পানিতে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি রয়েছে। তাই কিসমিস ভেজানো পানি খেলে আমাদের শরীরে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়। ফলে আমাদের শরীর সারাদিন কর্মক্ষম থাকে। 
  • লিভার ও কিডনি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করেঃ যদি আপনি লিভার ও কিডনির সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাহলে কিসমিস ভেজানো পানি খেতে পারেন। এর ফলে আপনার লিভার ও কিডনি পরিষ্কার থাকবে এবং সুস্থ থাকবে। 
  • হার্ট সুস্থ রাখেঃ কিসমিস ভেজানো পানি আমাদের হার্টকে সুস্থ ও ভালো রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই যারা হার্টের সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খেতে পারেন। তাহলে হার্ট সুস্থ ও ভালো থাকবে। 
  • দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখেঃ যারা চোখের সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খেতে পারেন। এর ফলে আপনার চোখ ভালো থাকবে। 
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করেঃ কিসমিসের মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধকারী পলিফেনল এবং ক্যাটেটিনস উপাদান রয়েছে। এই উপাদান গুলি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত

কিসমিস একটি পুষ্টিগণ সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার। তাই বলে আপনি ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস খেয়ে ফেলবেন, এটি ঠিক নয়। অবশ্যই এই স্বাস্থ্যকর খাবারটি পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। আপনি যদি বেশি পরিমাণে কিসমিস খেয়ে ফেলেন। তাহলে আপনি বিভিন্ন ক্ষতিকর রোগের সম্মুখীন হবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত?

আরো পড়ুনঃ সোনা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

সুস্থ এবং প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ টি কিসমিস খেতে পারেন। এতে সেই মানুষটি কিসমিসের সকল পুষ্টিগুণ এবং উপকারিতা ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারবে। তবে শিশুদের অবশ্যই এর চেয়ে কম পরিমাণে কিসমিস খেতে হবে। ৫ থেকে ১৩ বছর বয়সের শিশুদের ১০ থেকে ১৫ টি কিসমিস খাওয়া উচিত। এর বেশি পরিমাণে যদি কিসমিস খায়। তাহলে বাচ্চাদের দাঁত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও কিসমিস অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। তাই বাচ্চাদের এতে ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য তা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাছাড়াও গর্ভবতী মায়েদের এবং ডাইবেটিস রোগীদের অবশ্যই কিসমিস খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।

সকালে খালি পেটে কিসমিস খেলে কি হয় 

আপনি কি, সকালে খালি পেটে কিসমিস খেলে কি হয় জানতে চান? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা জানলে, আপনি নিজেও অবাক হয়ে যাবেন। এই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবারটি আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ করুন। নিয়মিত সকালে খালি পেটে কিসমিস খেলে, আপনি অনেক উপকৃত হবেন। নিচে সকালে খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা গুলো দেওয়া হলোঃ 

সকালে-খালি-পেটে-কিসমিস-খেলে-কি-হয়

  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  • রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
  • হার্ট সুস্থ ও ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • ব্লাড প্রেসার বা হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
  • হাড় শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে।
  • মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  • মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  • কিডনি ও লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। 
  • তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
  • চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • মানসিক অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।
  • অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম

কিসমিস একটি শুকনো ফল। কিসমিস অনেক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি উপকারী ফল। কিসমিস ভিজিয়ে খেলে আমাদের অনেক রোগ-বালাই দূর হয়। ফলে আমাদের শরীরের সুস্থ থাকে। অনেকেই কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চেয়ে থাকেন। নিচে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম দেওয়া হলোঃ 

প্রথমে ১০ থেকে ১৫ টি কিসমিস নিন। কিসমিস গুলো ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর একটি পরিষ্কার গ্লাস নিয়ে গ্লাসটি বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ভর্তি করুন। এরপর সেই গ্লাসে ধুয়ে রাখা কিসমিস গুলো ভিজিয়ে দিন। এরপর গ্লাসটি তুমি একটি ঢাকনা দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিন। এভাবে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মতো কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে সেই কিসমিস ও কিসমিস ভিজিয়ে রাখা পানি পান করুন।

কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার অপকারিতা

কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। তবে আমাদের শরীরের জন্য অতিরিক্ত কোন কিছুই খাওয়া ভালো নয়। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকলেও। যদি অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়া যায়। তাহলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে পরিমিত পরিমাণে কিসমিস ভিজিয়ে খেলে এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। নিচে অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে তুলে ধরা হলোঃ

  • অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস ভেজানো পানি খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া ও পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • কিসমিস খেলে অনেকের এলার্জি সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে। তারা কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • কিসমিসে শর্করা এবং প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে। যা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন।
  • কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে। তাই অতিরিক্ত কিসমিস খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অতিরিক্ত কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস ভিজিয়ে খাবার ফলে দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত কিসমিস ভেজা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার পরে অবশ্যই ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করুন।
  • গর্ভবতী মায়েদের অবশ্যই কিসমিস খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।

    প্রতিদিন কিসমিস খেলে কি হয়

    প্রতিদিন কিসমিস খেলে কি হয়? আজকে সেই বিষয়ে আলোচনা করব। কিসমিস আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ বিশেষ রহমত। ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদানের মধ্যে কিসমিস অন্যতম। কিসমিস প্রচুর পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি খাবার। প্রতিদিন কিসমিস খেলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন উপকার হয়। নিচে প্রতিদিন কিসমিস খেলে যে উপকারগুলো হয় তা দেওয়া হলোঃ

    • হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
    • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
    • হৃদরোগের রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। 
    • দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
    • হাড়ের গঠন ঠিক রেখে হাড়কে শক্ত ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
    • রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
    • কিডনি ও লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
    • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
    • শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
    • হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
    • কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
    • হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
    • ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
    • ত্বকের বলিরেখা কমিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
    • চুল পড়া কমাতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
    • শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।
    • ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে। 
    • মানসিক শান্তি এনে দেয়। 
    • মুখের ভেতরের গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।

    কিসমিস খেলে কি ফর্সা হয়

    কিসমিস খেলে কি ফর্সা হয়? এই প্রশ্নটি প্রায় অনেক মানুষের মনে এসে থাকে। কিসমিস অতিরিক্ত স্বাদে ও পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান। কিসমসের মধ্যে কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যেই পুষ্টি উপাদান গুলো ত্বককে সুন্দর, উজ্জ্বল, ফর্সা ও আকর্ষণীয় করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ত্বকের ববয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে। কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়াও মিনারেল, খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন রয়েছে। যেগুলো আমাদের ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বকের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল থেকে থেকে রক্ষা করে। ফলে আমাদের ত্বকের কোষের সুস্থভাবে বিকাশ ঘটে। 

    আরো পড়ুনঃ চিরতা খাওয়ার ২৫ টি উপকারিতা, অপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

    কিসমিস খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। কিসমিসে ভিটামিন সি রয়েছে। আমরা সকলেই জানি, ভিটামিন সি আমাদের ত্বকের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি ত্বককে উজ্জ্বল ও ফর্সা করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ভিটামিন সি ত্বকের বয়স্কের ছাপ কমিয়ে ত্বকের চামড়া টানটান করে রাখতে সাহায্য করে। কিসমিসে থাকা পটাশিয়াম আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বককে মসৃণ করে তোলে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, কিসমিস খেলে ত্বক উজ্জ্বল ও ফর্সা হয়। তবে সরাসরি ভাবে কিসমিস কালো মানুষকে ফর্সা করতে পারে না। তবে কালো, শ্যামলা, ফর্সা যেই রঙের মানুষ হোক না কেন? সকলের ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

    কিসমিস খেলে কি ওজন বাড়ে

    অনেকেই জানতে চেয়ে থাকেন, কিসমিস খেলে কি ওজন বাড়ে?  কিসমিস খেলে ওজন বাড়ে কি বাড়ে না। সেটি নির্ভর করে কিসমিস খাওয়ার উপরে। কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে। তাই যদি অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস খাওয়া হয়। তাহলে শরীরে ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যেয়ে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই অবশ্যই অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিমিত পরিমাণে কিসমিস খেতে হবে। তাহলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে না। 

    যদি পরিমিত পরিমাণে কিসমিস খাওয়া হয়। তাহলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কারণ কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। ফাইবার আমাদের পেট অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। পেট ভরে থাকলে বারবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। ফলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে না। বরং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, পরিমিত পরিমাণে কিসমিস খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস খেলে ওজন বাড়বে।

    কিসমিস খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

    কিসমিসে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ রয়েছে। যেমনঃ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন বি ১, ভিটামিন ২ ভিটামিন ৬, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, প্রোটিন, ফাইবার ,প্রাকৃতিক চিনি গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ, শর্করা, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালোরি ইত্যাদি। ফাইবার আমাদের হজম শক্তি উন্নত করে হজমে সাহায্য করে। এছাড়াও ফাইবার আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি ৬ আমাদের মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

    কিসমিস-খাওয়া-কি-স্বাস্থ্যের-জন্য-ভালো

    ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম হার্ট সুস্থ রাখতে এবং ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে আমাদের শরীর সুস্থ ও ভালো থাকে। আয়রন আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের শরীরের রক্তশূন্যতার সমস্যা দূর হয়। কার্বোহাইড্রেট, ক্যালোরি, শর্করা আমাদের শরীরে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের শরীর ক্লান্ত মুক্ত থাকে। শরীর সতেজ থাকে এবং সারাদিন কর্মক্ষম থাকে। তাহলে বুঝতে পারছেন, কিসমিসে থাকা পুষ্টিগুণ আমাদের  স্বাস্থ্যের জন্য সত্যিই প্রচুর ভালো।

    লেখকের শেষ কথা (কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা)

    আজকেরে আর্টিকেলটিতে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে ভালোভাবে এই সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আমার মতে, কিসমিস আমাদের প্রত্যেকদিনের খাদ্য তালিকায় যুক্ত করা উচিত। কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার ফলে আমাদের শরীর অনেক রকম রোগ থেকে মুক্ত থাকবে।

    অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস খাওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কারণ অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিসমিস নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। তাহলে কিসমিসের মধ্যে থাকা স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো আমাদের শরীর সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে আমাদের শরীর সুস্থ ও ভালো থাকবে। তাই আপনারা নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ কিসমিস ভিজিয়ে খান এবং সুস্থ থাকুন।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    আরাম্ভ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url